অস্ট্রেলিয়াতে সেরা গবেষণা পুরষ্কার পেলেন ইবি শিক্ষক

Share Now..


প্রতিবেদক, ইবি:
অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রার্থী এবং বাংলাদেশের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (শিক্ষা ছুটি) রফিকুল ইসলাম তার গবেষণার জন্য SETAC AU’s ২০২১ এর সেরা স্নাতকোত্তর গবেষণা প্রকাশনা পুরস্কার লাভ করেছেন।
জানা যায়, তিনি বর্তমানে পিএইচডি গবেষক হিসেবে স্কুল অফ এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস, দ্য ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল, অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু হল “প্রজনন হরমনাল যৌগগুলো ও তাদের সামুদ্রিক এবং মোহনার জলজ প্রাণীর উপর তাদের বিরূপ প্রভাব”। যৌগগুলো মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের থেকে প্রাক্রিতিকভাবে নিঃসৃত হয়, এছাড়াও মহিলাদের গর্ভনিরোধক বড়ি, গবাদি পশু, প্লাস্টিক, সারফ্যাক্টেন্টস, পেইন্টস, ইমালসিফায় ইত্যাদি হতে পরিবেশে আসে, যা চলমান নগরভিত্তিক বর্জ্যপানি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সম্পূর্ণরুপে বিশুদ্ধ করতে পারে না।
পূর্বে তিনি ও তাঁর গবেষণার দল অস্ট্রেলিয়ার Sydney rock oyster, Saccostrea glomerata (রক ঝিনুকের) গবেষণায় দেখিয়েছেন, কিভাবে এই হরমোনগুলোর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীগুলো পুরুষ থেকে উভলিঙ্গ (intersex), এমনকি মহিলা (feminising) হয়ে যাচ্ছে, কিভাবে পুরুষগুলো যৌন দুর্বলতায়/ অস্বাভাবিকতায় ভুগছে এবং এই প্রভাব তাদের বাচ্চাদের উপর যাচ্ছে, এমনকি বাচ্চাদের মেরে ফেলছে ও বৃদ্ধি বিলম্ব হচ্ছে । তাঁরা ধারনা করছেন, এটির উচ্চমাত্রা অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

স¤প্রতি তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, কিভাবে হরমোনগুলো রক ঝিনুকের দেহে অপরিহার্য উপাদান যেমন, লিপিড, অ্যামিনো অ্যাসিড, কার্বোহাইড্রেট, ট্রাইকারবক্সিলিক অ্যাসিড চক্রের মধ্যবর্তী উপাদান এবং শক্তি উৎপাদন ব্যাহত করছে, যা কিনা প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীগুলো ও তাদের বাচ্চাদের উপর ঐ প্রভাব ফেলছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাঁদের এই গবেষণা এবার অস্ট্রেলিয়া-এশিয়া এনভায়রনমেন্টাল টক্সিকোলজি অ্যান্ড কেমিস্ট্রি (SETAC, Australia-Asia), অস্ট্রেলিয়ার মেলব্রন সম্মেলন’ ২০২১ (৩০ আগস্ট) তে উপস্থাপনা করা হয়েছিল, যা সবচেয়ে সেরা গবেষণা ২০২১ এর সম্মাননা লাভ করে। গবেষণাটি ইতিপূর্বে মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল “এলসেভিয়ার জলজ বিষবিদ্যা’’ (Elsevier Aquatic Toxicology) এ প্রকাশিত হয়।
গবেষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ও আমার গবেষণার অভিভাবক (Dr. Geoff MacFarlane) ভাবছি, বাস্তব আণবিক প্রক্রিয়ার তত্ত¡ (Molecular mechanism) বের করবার জন্য ট্রান্সক্রিপ্টমিক্স এবং মিথাইলোম পরীক্ষা (Transcriptomics and methylome study) করা দরকার, যা আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। যেটা হবে মোলাস্কান মডেলের (Molluscan model) আর একটি সংযোজন।
তিনি আরো বলেন, প্রকাশনাটি শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, বরং বিশ^ব্যাপী ২০২১ এ অঞ্চলের সেরা প্রকাশনা ছিল। অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়া মহাদেশ থেকে প্রধান প্রতিযোগীরা এ প্রকাশনা প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। SETAC AU, SETAC EUROPE প্রতিবছর এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে থাকে। আসলেই এ গবেষণা প্রকাশনা পুরষ্কারটি আমার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *