‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ ধর্ষণের আসামিকে জামিন দেন কামরুন্নাহার: আপিল বিভাগ

Share Now..

থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলায় অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত আপিল বিভাগের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়।

বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ দেওয়া ঢাকার আদালতের বিচারক মোসাম্মাৎ কামরুন্নাহার দেশের কোন ফৌজদারি আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না মর্মে রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের লিখিত রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, জামিন সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা বিচারক কামরুন্নাহার জ্ঞাতসারেই অবজ্ঞা করেছেন। এজন্য তিনি ফৌজদারি মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন। সেজন্য সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলো। তিনি দেশের কোন ফৌজদারি আদালতে কোন ধরনের ফৌজদারি মামলার বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারবেন না।

রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্য তিন বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আপিল বিভাগের ছয় পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পূর্ববর্তী বিচারক ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম সিকদারের জামিন পাঁচবার নামঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে মোসাম্মাৎ কামরুন্নাহার অসৎ উদ্দেশ্যে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও ওই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এটা সত্য যে কোন ফৌজদারি মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া না দেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে আসামির জামিন স্থগিতাদেশ থাকার পরও সেই আসামির জামিন মঞ্জুরের কোন সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের নাই। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার প্রয়োগের বিষয়টি সবসময় বিচারকসুলভ হতে হবে। এক্ষেত্রে মামলার অপরাধের মাত্রা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিচারককে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৭ এ বিচারাধীন আসামি আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছিলো। মামলার এই পর্যায়ে এসে ওই আসামির জামিন মঞ্জুর যথাযথ হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.