এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট, নেপথ্যে কারা

Share Now..


এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে গৃহস্থালি কাজে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস-সংযোগ বন্ধ। এর ফলে বাসাবাড়িসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের সংকটও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একশ্রেণী অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র মিলে এই সংকট তৈরি করছেন। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এলপিজির খালি সিলিন্ডার সংগ্রহ করে তা কেটে কেজি দরে বিক্রি করে। এতে বাজারে সিলিন্ডারের সংখ্যা কমতে থাকে। তৈরি হয় সংকট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিস্ফোরক পরিদফতর বলছে, এভাবে সিলিন্ডার কাটা পরিবেশ ও মানবসমাজের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বেআইনি।এলপিজি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, গত ৮-৯ মাস ধরে বাজারে সিলিন্ডার সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ সিলিন্ডার খালি হওয়ার পর গ্রাহক আবারও তা গ্যাস রিফিলের জন্য ফেরত নিয়ে আসার কথা। কিন্তু যে পরিমাণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে, তার সব রিফিলের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে আসছে না। প্রতিবারই নতুন করে বাজারে সিলিন্ডার ছাড়তে হচ্ছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্টিল রি-রোলিং মিল ও স্ক্র্যাপ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একশ্রেণীর ব্যবসায়ী বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবহৃত খালি সিলিন্ডারগুলো সংগ্রহ করছেন। পরে তা কেটে ও গলিয়ে স্ক্র্যাপ তৈরি করে কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, শরিয়তপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার শেখ পাড়া, কুষ্টিয়ার বড় বাজার, ফরিদপুরের কমরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। গ্রাহক বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তুকি দিয়ে তৈরি, খরচের চেয়ে কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এই ব্যবসার ধরন হলো, ভোক্তা যখন তার খালি সিলিন্ডার রিফিল করতে ফেরত আসবেন, সেই লভ্যাংশ থেকেই ক্রমান্বয়ে মুনাফা পাবে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অবৈধভাবে স্ক্র্যাপ তৈরির কারণে এলপিজি সিলেন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.