খেরসনে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ইউক্রেনীয় বাহিনী

Share Now..


ইউক্রেনে চলা ভয়াবহ যুদ্ধে রাশিয়ার দখল করা একমাত্র প্রাদেশিক রাজধানী ও বৃহত্তম ভূখণ্ড হলো খেরসন। বিশাল অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারে ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের পাল্টা আক্রমণে অনেকটা দিশেহারা রুশ বাহিনী। খেরসনকে কেন্দ্র করে সামনে একটা প্রবল যুদ্ধ অপেক্ষা করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনীয় বাহিনী খেরসনে এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত। খবর রয়টার্সের। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি অঞ্চলটির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইউক্রেন ও রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খেরসন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর দিকেই অঞ্চলটি দখল করে নেয় রাশিয়া। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, কিয়েভ তার হারানো ভূখণ্ড ফিরে পেতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রুশ বাহিনীর ওপর।

ইতোমধ্যে ইউরোপে শীত পড়তে শুরু করেছে। ভারী তুষারপাত শুরু হলে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ করাটা কঠিন হয়ে যাবে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্পূর্ণভাবে শীত শুরু হওয়ার আগেই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতির জন্য খেরসনের একটি অংশ ছেড়েও দিতে পারে মস্কো।

খেরসনকে ঘিরে ডিনিপ্রো নদীর আশপাশে অনেক শহর ও গ্রাম ছড়িয়ে রয়েছে। নদী হয়ে খেরসনের অনেক বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে মস্কো সমর্থিত প্রশাসন। তাদেরকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

গ্রীষ্মকাল থেকেই খেরসন পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয়রা খেরসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস বলেই মনে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, একটি বিজয় দরকার। এটি শুধু ইউক্রেনের নাগরিকদের মনোবল চাঙা রাখার জন্যই নয়, মিত্রদের আশ্বস্ত করার জন্য যে ইউক্রেন একটি যুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানান, তিনি বিশ্বাস করেন রাশিয়ার কাছ থেকে খেরসন পুনরুদ্ধারের সামর্থ্য ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর রয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানকে তিনি পরিকল্পিত এবং কার্যকর বলেও উল্লেখ করেছেন।

নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে খুব পরিকল্পিত কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখেছে। তিনি মনে করেন, পশ্চিম তীরের ভূখণ্ড মুক্ত করার আগ পর্যন্ত তারা অভিযান চালিয়ে যাবেন। ফলে ইউক্রেন খেরসন মুক্ত হবে কিনা প্রশ্নের জবাব হলো তিনি মনে করেন তাদের সামর্থ্য রয়েছে বলে জানান অস্টিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *