গ্রামবাংলার কাঁথা

Share Now..

একটি ভালো কাঁথা তৈরি করতে বেশ সময় ও শ্রম লাগে। সে তুলনায় পারিশ্রমিক তেমন ভালো জোটে না বলে আজ কাঁথাশিল্প মৃতপ্রায়। উপরন্তু, শিশুদের কাঁথার জায়গাটা দখল করে নিয়েছে বড় বড় বস্ত্র তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলি। তাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প-হস্তশিল্প বিপর্যয়ের মুখোমুখি। তবুও নকশিকাঁথা আমাদের বড় অহংকার। নানা দেশে তা সমাদৃত। শৌখিন পণ্য হিসাবে বিদেশে রফতানিও হচ্ছে।

শীতের হাত থেকে মায়েরা নবজাতকদের রক্ষা করেন হাতে তৈরি শীতের কাঁথা জড়িয়ে। নরম কাঁথায় শুয়ে নবজাতক পায় মায়ের কোলের ওম।

কাঁথা কথাটা এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘কনহা’ থেকে, যার অর্থ হলো জীর্ণবস্ত্র দিয়ে তৈরি শীতের পোশাক। অনেক সময় আমাদের ফেলে দেওয়া পুরনো, ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে নতুন শাড়ি সহযোগে তৈরি হয় এই কাঁথা। বিভিন্ন নকশা এঁকে এই কাঁথাকে বাহারি নকশিকাঁথায় পরিণত করা হয়। কাঁথার নানান সেলাই ও সুতো বদল করে কাঁথার নামকরণ করা হয়—সুজনি কাঁথা, শিউলি কাঁথা, কদমফুল কাঁথা, গোলকধাঁধা কাঁথা, মমতাজ কাঁথা, লতাপাতা কাঁথা ইত্যাদি।

নকশিকাঁথা মুসলিম সমাজ ও গ্রামবাংলার জনপ্রিয় লোকশিল্প। মুসলিম সমাজে কাঁথা ব্যবহারের খুব চল আছে। অতিথি বাড়িতে এলে বিছানায় নানান ধরনের কাঁথা বিছিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিয়েতে কাঁথা উপহার দেওয়া হয় যৌতুক হিসাবে।

গ্রামবাংলার অনেক নারী কাঁথা তৈরি করাকে পেশা হিসাবে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পে পরিণত করেছেন। সংসারের কাজ সেরে তারা শীতের দুপুরে ছাদে কিংবা বারান্দায় বসে গল্প করতে করতে কাঁথা তৈরির কাজ চালিয়ে যান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.