চৌগাছায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ কিন্তু বেশিরভাগ কেন্দ্র ছিল ভোটার শুন্য

Share Now..

\ চৌগাছা প্রতিনিধি \
যশোরের চৌগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিুপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে ভোট কেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা। দু’একটি কেন্দ্রে কিছু ভোটার দেখা গেলেও তার বেশির ভাগই ছিল নারী ভোটার। মঙ্গলবার (২১ মে) অনুষ্ঠিত হয় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তুতির কোনই ঘাটতি ছিল না, তবে যাদের জন্য আয়োজন সেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। সকাল ৮ টায় ভোট গ্রহন শুরু হয়ে তা বিরতীহিনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। ভোট গ্রহণ শুরু হতে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্র ছিল ভোটার শুন্য। অনেক কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইন শৃংখলাবাহিনী ও ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োজিতদের এক প্রকার অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। সকাল ৯ টায় পৌরসভার শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় দু’একটি করে নারী ভোটার আসছে ভোট দিয়ে নিরবে কেন্দ্র ছেড়ে যাচ্ছে। ভোটাররা বলছে এত সুন্দর ভোট আর দেয়নি কখনও কোন ভিড় নেই, নেই কোন ঝামেলা। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আনজুমান আরা মাহমুদা বলেন, এক ঘন্টায় অর্ধশত ভোট পড়েছে, কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা ২১১৬টি। এই কেন্দ্রে কথা হয় আনারস প্রতীকের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা এসএস হাবিবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ভোটের উপস্থিতি কম দেখছি, বেলা বাড়ার সাথে ভোটার উপস্থিতি কেমন হয় সেটি দেখার বিষয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় কংশারীপুর কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় কিছু নারী ভোটার দাড়িয়ে আছে। প্রিজাইডিং অফিসার ফাতেমা সুলতানা বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার হচ্ছে ২৭৪২ এখনও ১শ কাষ্ট হয়নি। কিছু পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের টেংগুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে একই দৃশ্য দেখা যায়। প্রিজাইডিং অফিসার সোলাইমান হোসেন বলেন, শতাধিক ভোট পড়েছে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোট বাড়ার সম্ভবনা আছে। বেলা ১১ টায় আন্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় বেশ কিছু নারী ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। এখানকার প্রিজাইডং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন ৩৮১০ ভোট আছে এই কেন্দ্রে ১০ টার হিসেব অনুযায়ী এখানে ভোট পড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশের মত। কিছুদুরে আড়শিংড়িপুকুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় খা খা করছে কেন্দ্র। প্রিজাইডং অফিসার সাহেব আলী বলেন, ভোটাররা আসছে, ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে। ১৫৩৬ ভোটের মধ্যে এ পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১৪০টি। দুপুর ১২টায় উপজেলার মাশিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় ভোটার নেই। প্রিজাইডিং অফিসার মারুফ হোসেন বলেন, ১৯৪৫ ভোটের মধ্যে ৩৪২ ভোট পড়েছে। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পৌরসভার ইছাপুর কেন্দ্রে যেয়ে সেই একই দৃশ্য দেখা যায়। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নাসরিন সুলতানা বলেন, ৩৫৫৮ ভোটের মধ্যে দুপুর ১২টার হিসেবে ভোট পড়েছে ৪৫৩টি। দুপুর ১টার দিকে পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় দায়িত্বরত সকলেই অলস বসে আছে। প্রিজাইডিং অফিসার গাজী আবুল কাশেম বলেন,সর্বশেষ তথ্যমতে এখানে ভোট পড়েছে মাত্র ১৪৫ টি। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার হচ্ছে ২৬৭৪। বিকেল সাড়ে ৩টায় হাজিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় এখানে মোট ভোটার ১৯২৫, ভোট পড়েছে মাত্র ৩৬৪। প্রিজাইডং অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ভোটাররা আসছে আর ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই দিনের বেশির ভাগ সময় ছিল ভোটার শুন্য। একপক্ষ নির্বাচন হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি হতাশাজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *