ঝিকরগাছায় নকল ধরে বিপাকে প্রভাষক নাজমা : থানায় জিডি

Share Now..

ঝিকরগাছা প্রতিনিধিঃ

যশোরের ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা চলাকালীন সময় একছাত্রীর নকল ধরে বিপাকে পরেছে একই কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে (বিএম) শাখার প্রভাষক মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৮)। ঘটনার বিষয়ে প্রভাষক নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেছেন।
সাধারণ ডায়রী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা চলাকালীন সময় একছাত্রীর নকল করাকালীন নকল সহ তাকে ধরে এবং পরীক্ষা কমিটের নিকট পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্ন সহ হস্তান্তর করেন। পরীক্ষা কমিটির সদস্যগং পরবর্তীতে অনুমান ৩০/৪০ মিনিট পর পুনরায় খাতা প্রদান করে এবং পরীক্ষা দেওয়া সুযোগ দেয়। এক পর্যায়ে পরীক্ষা শেষে বিধি মোতাবেক খাতা জমা দিয়ে কলেজ থেকে চলে যায় ঐ ছাত্রী। এমতাবস্থায় কলেজের ডিউটি শেষ করে কলেজ থেকে প্রভাষক তার নিজ স্কুটি নিয়ে দুপুর অনুমান ১.১৫ মিনিটের সময় ঝিকরগাছা বাজার থেকে ব্যক্তিগত কাজকর্ম শেষে কৃষ্ণনগর ২নং ওয়ার্ডস্থ ছাত্রীর বসত বাড়ির সামনে পার্কিং করার সময় স্কুটির নিকট দুপুর অনুমান ১.৫৫ মিনিট সময় ছাত্রীর বোন তন্দ্রা খাতুন (৩০) আসেন এবং প্রভাষকের বলেন আপনাকে আমার মা ডাকছে। তখন প্রভাষক নাজমা খাতুন ছাত্রীদের বাসায় যেতে অস্বীকার করলে, ছাত্রীর মা মমতাজ (৫৫) ওইখানে আসে এবং বলে তুই আমার মেয়ের নকল ধরার সাহস পাইছিস কোথায় ? ওই কথা শোনার পর প্রভাষক কথার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর মা ও বোন তাকে এলোপাতাড়ি ভাবে কিলঘুসি, চড়থাপ্পড় মারিয়া শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফোলা জখম করে এবং পরিহিত কাপড় চোপড় টানা-হেচড়া করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তার (প্রভাষক) ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আগিয়ে আসলে জীবননাশের হুমকি ধামকি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ছাত্রীর মা ও বোন। এমতাবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রভাষক নাজমা খাতুন। এ বিষয় ঝিকরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়েছে। ডায়রী নং ২০০। তারিখ- ০৪/০৮/২০২২ইং। এছাড়াও প্রভাষক ঘটনার বিষয়ে সম্মিলনী মহিলা কলেজের সভাপতি নিকট বিচার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুর রহমান বিষয়টির সত্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে সুপারিস করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রভাষক বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। বর্তমানে ডায়রীটি আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সম্মিলনী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে আমাদের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং বসে এবং মিটিংয়ে সবার মতামতের উপর ভিত্তি করে আমাদের উক্ত ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.