ঝিকরগাছায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতন : স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

Share Now..

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন স্ত্রীর পিত্রালয়ে এসে নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সে ৫নং পানিসারা ইউনিয়নের বেজিয়াতলা গ্রামের মশিয়ার রহমানের মেয়ে শারমিন আক্তার (২৪)। অভিযোগে বিবাদীরা হলেন, মনিরামপুর থানার মুড়াগাছা গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে শাহিন আলম(৩১), মৃত জুড়ন দফাদারের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ(৬০), দ্বীন মোহাম্মদের স্ত্রী শাফিয়া খাতুন(৫৫), আলাল হোসেনের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৩৫), রফিকুল ইসলাম নুনুর স্ত্রী রেক্সনা বেগম (৪০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিবাদী শাহীন আলমের সাথে বিগত ২৪/০৭/২০১৬ইং তারিখে ৩লক্ষ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে বাদী শারমিন আক্তারের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ১নং বিবাদীর ঔরষে বাদীর গর্ভে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বাদীর পিতা তার মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেন, চারানা ওজনের আংটি, ১লক্ষ টাকার সাংসারিক আসবাবপত্র দেয়। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ৩লক্ষ ২০হাজার গ্রহণ করে। ছেলে হওয়ার পর ২ও৫নং বিবাদীর প্রত্যক্ষ প্রচারণায় ১নং বিবাদী বাদীর নিকট ৫লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করে বাদীকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। বাদী যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১৮/০৬/২০২১ইং তারিখ সকাল ৯টার সময় বাদীকে মারধর করে শিশু সন্তানসহ একবস্ত্রে তাড়িয়ে দেয়। বাদী নিরুপায় হয়ে তার পিতার বাড়িতে এসে পিতাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। বাদীর পিতা উক্ত বিষয়ে আপোষ মিমাংসার জন্য বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ করলে গত ১৭/০৮/২০২১ইং তারিখ ৪টায় সকল বিবাদীরা বাদীর পিত্রালয়ে আলোচনায় বসে। আলোচনায় একপর্যায়ে বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ৫লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে অনড় থাকে। স্থানীয় লোকজন যৌতুকের দাবি পরিত্যাগ করে শিশু সন্তানসহ বাদীকে নিয়ে সংসার করার অনুরোধ করলে বিবাদীরা অনুরোধ উপেক্ষা করে বলে যৌতুকের টাকা না দিলে বাদীকে তালাক দিয়ে অধিক যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিবাহ করবে বলে হুমকি দেয় ২ ও ৫নং বিবাদীর প্রত্যক্ষ প্রচরণায় ১নং বিবাদী বাদীকে কিল, ঘুষি মেরে সকল বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে বাদী নিরুপায় হয়ে ঝিকরগাছা থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের একপর্যায়ে থানা পুলিশ ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিবাদীরা এটা মেনে নিতে নারাজ হওয়া অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১ (গ)/ ৩০ ধারায় মামলা রুজু করেন। মামলা নং ১১, তারিখ ১৪/০৯/২০২১ইং।
ঘটনার বিষয়ে ১নং বিবাদী শাহিন আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭৫৯-৯৯০০৭০ নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ১নং বিবাদীর পিতা ও মাতা (২ ও ৩ বিবাদী) সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা ও যৌতুকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সর্ম্পূণ বিষয় অস্বিকার করেন।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার নিকট একটি অভিযোগ হয়। অভিযোগের উপর তদন্ত পূর্বক ঘটনাটির মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিবাদী পক্ষ মানতে রাজী না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ১নং আসমী পালাতক ও ৪জন আসামী বর্তমানে বিজ্ঞ আদালত হতে জামিনে আছে। ১নং আসমীকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশাকরি দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.