তেল শোধনাগার নির্মাণে কুয়েতকে পাশে চায় সরকার

Share Now..


দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার নির্মাণে কুয়েতকে সঙ্গী হিসেবে চায় সরকার। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণে ফ্রান্সের কোম্পানি টেকনিপ সরে যাওয়ার পর এ অবস্থান নিয়েছেন এ খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা।

মূলত সাড়ে সাত বছর আগের এক আলোচনা এবং চিঠির সূত্র ধরে কুয়েত পেট্রোলিয়াম ইন্টারন্যাশনাল (কেপিআই) ফেরাতে বিদ্যুৎ , জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। ২০১২ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালের ১২ জুন বিদু্যত্ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০-র আওতায় দরপত্র আহ্বান ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৫ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সের কোম্পানি টেকনিপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ঐ বছরেরই ডিসেম্বরে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবনা জমা দেয় ফরাসি কোম্পানিটি।খসড়া প্রকল্প পরিকল্পনায় (ডিপিপি) ইআরএল-২ নির্মাণের খরচ ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে টেকনিপ প্রাথমিকভাবে ৬০ কোটি ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা) বাংলাদেশকে ঋণ হিসেবে দিতে সম্মত হয়।

একই সঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাকি টাকা সংগ্রহে সহযোগিতা করার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু ২০১৬ সালের মার্চের শুরুর দিকে তারা এ প্রস্তাব থেকে সরে আসে। শুধু ইপিসি (প্রকৌশল, প্রকিউরমেন্ট ও নির্মাণ) ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে টেকনিপ। ঐ বছরের এপ্রিলে ইআরএল দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডকে (ইআইএল) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কয়েক মাস পর নভেম্বরে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ও বিপিসি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে তেল কিনে দেশে বেশি দামে বিক্রি করে বিপিসির সঞ্চিত অর্থ থেকে এ প্রকল্পে খরচের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কাজ আর শুরু হয়নি। দফায় দফায় প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচ বেড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ানোর পর এ বছরের (২০২২) মে মাসে প্রকল্পটিতে আর আগ্রহী নয় বলে বিপিসিকে জানিয়ে দেয় টেকনিপ। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *