প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

Share Now..

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। কেননা দেরি হলে ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি জনগণও সঠিক সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।
সভায় পাঁচটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বারবার কেন প্রকল্পগুলোর সংশোধন করতে হয় এটা যেন বারবার না হয় সেটা দেখতে হবে। হাওর এলাকায় রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে উড়াল সড়কের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে পানি চলাচলের পাশাপাশি সড়কও টেকসই হয়। পুলের মতো করে সড়ক করতে হবে। সেই সঙ্গে গ্রাম অঞ্চলে ব্রিজ ও কালভার্ট এমনভাবে করতে হবে যাতে নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার আশপাশে সাধারণ গরিব মানুষের জন্য বিনোদনকেন্দ্র তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ৯টি জেব্রার মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বরিশাল সেনানিবাসের স্থাপনাগুলো নির্মাণে সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্থাপনা নির্মাণে খেয়াল রাখতে হবে যাতে জোয়ারের পানি চলাচল করতে পারে।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় দেশে একটি নতুন ইউরিয়া প্ল্যান্ট স্থাপনের ৭২৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আলোচনার সময় একনেকের সদস্যরা অভিমত দেন, দেশীয় কারখানা স্থাপন করার পাশাপাশি, যেসব দেশে কম মূল্যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, সেখানে আমরা গিয়ে ইউরিয়া কারখানা স্থাপন করতে পারি, যা অধিক লাভজনক হতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় হলো, আমাদের সারের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু উত্পাদন করতে গেলে গ্যাসের সংকট হয়। ফলে বিদেশে সার কারখানা নির্মাণে দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন। সেই সার দেশে ব্যবহার করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনাটা বেসরকারি খাত উন্মোচন করতে পারে। উদ্যোক্তারা চাইলে বাইরের দেশেও সার কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে গ্যাসের সংকট কমবে এবং বিদেশে বিনিয়োগও বাড়বে। তবে দেশের স্বার্থ যেন আগে রক্ষা হয়, সে বিষয়টি উদ্যোক্তাদের নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় পাঁচটি নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

নতুন পাঁচটি প্রকল্প হলো, ১০৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, ২০০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্লাড অ্যান্ড রিভারবাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট-২) শীর্ষ প্রকল্প, ৭২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প এবং ১১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published.