প্রিজাইডিং ও পুলিং অফিসারে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

Share Now..

পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় আগামী ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে সহকারী-প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যান সমিতি’র দশমিনা শাখার সভাপতি ও ২২নং মধ্য গুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহমান স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নিজের ছোট ভাইকে দাড় করিয়ে ৫’শ থেকে ১’হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করে বিভিন্ন দপ্তর থেকে দেয়া তালিকায় টিক চিহ্নের মাধ্যমে সহকারী-প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের জন্য নাম নিয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে মাদরাসা, ইবতেদায়ি ও ননএমপিও কলেজ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পর্যাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা সত্বেও অর্থের বিনিময়ে তালিকা প্রস্তুত করায় নির্বাচনী গভীর ষড়যন্ত্র আশংকা করেছেন এই শিক্ষক নেতা।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করার সময় উপস্থিত ছিলেন, চরঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন, মধ্য আজবেগী শিকদারিয়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক ও মধ্য বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির প্রমূখ।

এছাড়াও দশমিনা সরকারি কলেজের এক শিক্ষক জানায়, নন এমপিও ২জন শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্বে দেয়া হলেও সরকারি ও এমপিওভুক্তদের কোন দায়িত্বে দেয়া হয়নি। খোজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান দশমিনায় যোগদানের সাথে সাথে নিজের ছোট ভাই মো. জোবায়ের হোসেনকে মাষ্টার রোল নিয়োগ দেখিয়ে বিভিন্ন কাজের বাহানায় গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে, কৃষি দপ্তরের সিনিয়র উপজেলা সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ একাধিক নির্বচনে পিজাইডিং অফিসারের দ্বয়িত্ব পালন করলেও এবছর নির্বাচন কর্মকর্তা তার স্থলে একই দপ্তরের জুনিয়রকে পিজাইডিং অফিসার দেয়ায় নিজের নাম সহকারী প্রিজাইডিং থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তিনি আরো জানায়, এবছর এলোমেলো ভাবে দ্বায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন’র সম্মূখে উপস্থিত থাকা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান’র কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মো. জোবায়ের হোসেনকে মাষ্টার রোলে কাজ করানো হচ্ছে, অর্থ নেয়ার বিষয়ে আমি এখন কোন স্বাক্ষাৎকার দিতে পারব না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, ‘নির্বাচনি রিটার্ণিং কর্মকর্তা সে, এবিষয় আমি কোন হস্তক্ষেপ করি নাই। এ বিষয় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে আমার কাছে সবকিছু অস্বিকার করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.