ব্ল্যাক হক, হামভিসহ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এখন তালেবানের হাতে

Share Now..

কাবুল দখলের পর একাধিক ছবিতে তালেবান যোদ্ধাদেরকে তাদের হাতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের বানানো অস্ত্র ও যানবাহন দেখাতেও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা বিভিন্ন পোস্টে অনেক তালেবান যোদ্ধাকে দেখা গেছে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সাজে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষ বাহিনীর যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের আলাদা করা যাচ্ছিল না। সেসব ছবিতে ছিল না তালেবান যোদ্ধাদের লম্বা দাড়ি কিংবা তাদের ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার-কামিজ পোশাক, ছিল না জং ধরা পুরোনো সব অস্ত্রও।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী যখন দেশটির একের পর এক শহরে আত্মসমর্পণ করছিল, তখন তালেবানরা তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র জব্দের সুযোগ পায়। পায় হামভি ট্রাক ও ব্ল্যাক হকের মতো হেলিকপ্টার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, এখন তালেবানরাই পৃথিবীর একমাত্র উগ্রপন্থি গোষ্ঠী, যাদের একটি বিমান বাহিনীও থাকছে। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকেও আফগান বিমানবাহিনীর কাছে হামলায় ব্যবহারযোগ্য হেলিকপ্টার ও বিমানসহ মোট ১৬৭টি এয়ারক্রাফট ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকনস্ট্রাকশনের (সিগার) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। তবে এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতগুলো তালেবানের হাতে পৌঁছেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তালেবানের দখলে এখন হেরাত, খোস্ত, কুন্দুজ ও মাজার-ই-শরিফসহ আফগানিস্তানের বাকি ৯টি বিমান ঘাঁটিও। এসব ঘাঁটি থেকে মনুষ্যবিহীন ড্রোন এবং এয়ারক্রাফট জব্দের ছবি দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও তালেবান যোদ্ধারা।

এয়ারক্রাফট বাদ দিলে কট্টরপন্থি এ ইসলামি গোষ্ঠীটি অবশ্য আগে থেকেই অত্যাধুনিক বিভিন্ন বন্দুক, আগ্নেয়াস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের সঙ্গে পরিচিত। আফগানিস্তানের দুই দশক মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর উপস্থিতির কারণে দেশটিতে এসব সরঞ্জাম প্রচুর এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আফগানিস্তান ছাড়ার ঘোষণা আসার আগেই বিভিন্ন টহল পোস্ট বা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তালেবান অনেক অস্ত্র জব্দ করেছিল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও তারা এ ধরনের অনেক অস্ত্র পেয়েছে। পেয়েছে নাইট ভিশন গগলসের মতো সরঞ্জামও।

আফগান বাহিনীর কাছে দ্রুতগতিতে হামলায় ব্যবহারযোগ্য যানও ছিল। এসব সরঞ্জামের বড় অংশই এখন তালেবানের হাতে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের নতুন এ শাসকগোষ্ঠী এসব অস্ত্র, সরঞ্জামের কিছুটা অংশ ব্যবহার করতে পারলেও, এর একটা অংশ শেষ পর্যন্ত কালোবাজারে বিক্রি হতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। তালেবানরা নিজেদেরকে আগের চেয়ে উদার এবং তুলনামূলক বেশি দায়িত্বশীল হিসেবে হাজির করলেও বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তাদের আদর্শিক মিত্রদের কাছে এসব অস্ত্র চলে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *