যশোরের মার্কেট গুলোতে উপচে পড়া ভিড়, সংক্রমণ ঠেকাতে ১৫ দফা উপেক্ষিত

Share Now..

এস আর নিরব যশোরঃ
যশোরের মানুষের মধ্যে নেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের কোন সতর্কতা। যশোর শহরে মার্কেটে ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনা ভাইরাস বলে কোন কিছু আছে। সকাল থেকেই বাজারের বিভিন্ন স্থানে ও মার্কেটগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বাংলাদেশে সংক্রমণ ছড়াছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। তারপরও সংক্রমণ ঠেকাতে ১৫ দফা নির্দেশনার কোনটিই মানা হচ্ছে না। প্রশাসনিক কোন তৎপরতা না থাকায় কোন কাজেই আসছে না কাগজ-কলমের এই নির্দেশনা। সব মিলিয়ে করোনা সর্তকতায় পিছিয়ে রয়েছে যশোর।

রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, উপাসনালয়সহ যশোরের সবখানে চলছে স্বাস্থ্যবিধির উপেক্ষা। করোনা সুরক্ষায় মাস্ক, হাত পরিষ্কার ও নিরাপদ দূরত্ব মানার ক্ষেত্রে কারোর ভ্রুক্ষেপ নেই। ফলে রয়েছে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা। শনিবার জেলায় ১১ জনের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদিন র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টে ২৬ জনের মধ্যে ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, গকতাল ২৬জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হয়। এরমধ্যে ১১ জনের করোনা পজিটিভ আসে। তবে এদিন কোন আরটি-পিসিআর টেস্ট হয়নি। আর ৩টি জিন এক্সপার্ট টেস্টেও কোন পজিটিভ রেজাল্ট আসেনি।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে সতর্কতা বলতে শুধুমাত্র টিকার বুস্টার ডোজ কার্যক্রম। যশোরের কোথাও ১৫ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন নেই। নিদের্শনায় রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম আসনের ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও হচ্ছে উল্টোটা। পূর্ণ ধারণ ক্ষমতায় খদ্দের বসিয়ে রেস্তোরাঁয় খাবার বিক্রি চলছে। বাড়ির বাইরে গেলে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধির কোনটাই অনেকে মানছেন না। যশোর শহরের বাজার ও মার্কেটগুলোয় উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেও অনেকে মাস্ক পরছেন না। দোকানিরাও মানছেন না কোন প্রকার স্বাস্থবিধি।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রধান ডাকঘর, জিরো পয়েন্ট মোড় সংলগ্ন পুরাতন লাইব্রেরি এলাকা ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার কোচিং সেন্টারগুলোয় চলছে স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই মাস্ক না মুখে দিয়েই ভিড়ে দাঁড়িয়ে গল্পে মাতছেন। ধারণ ক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে কোচিং ক্লাস চলছে। এমন দৃশ্য স্টেডিয়াম সংলগ্ন আলমাস ও মুজিব সড়কের পিকাসো কোচিং সেন্টারেরও। অথচ নির্দেশনা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় গণপরিবহনের স্বাস্থ্যবিধি মানা নির্দেশনাও থাকলেও পুরোপুরি উপেক্ষিত। পরিবহনে মুখে মাস্ক বিহীন যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। দায়িত্বে নিয়োজিত শ্রমিকরাও মাস্ক পরছেন না। এছাড়া পরিবহনগুলো হাত পরিষ্কারের জন্য স্যানিটাইজারের কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও নির্দেশনা জনসমাবেশের ব্যপারের নির্দেশনাও উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিয়ে, বৌভাত, পিকনিক ও পার্টি ঘিরে লোকসমাগম আগের মতই বেশি হচ্ছে। তবে ১৫টি নির্দেশনায় এসব অনুষ্ঠানে ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। মসজিদসহ অন্যসব উপাসনলয়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে না। অফিসে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ থাকলেও বেশির ভাগ অফিসে সেটি নিশ্চিত হচ্ছে না।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, বিয়ে বৌভাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কমসংখ্যক উপস্থিতি ও রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার অর্ধেক আসনের ব্যবস্থার নির্দেশনা আছে। তবে এসব না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে কোন নির্দেশ নেই। তাই এগুলো মানতে জনসচেতনতা বৃৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে বাধ্য করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। দুই এক দিনেই মধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেটরা এই দায়িত্ব পালনে মাঠে নামছেন। তিনি আরও জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং চলছে। প্রশাসনের তরফ থেকে মাস্কও বিতরণও করা হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি না মানার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.