যশোরে যুবলীগনেতা শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে হামলা মারপিট

Share Now..

নারী কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, আটক চারজনকে কারাগারে প্রেরণ

এস আর নিরব যশোরঃ

যশোরে যুবলীগনেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে হামলা ও মারপিটের অভিযোগ উঠছে। আজ রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে শহরের মুজিব সড়কের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা এক কর্মচারীকে মারপিটের পর জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী ম্যানসেল ও তার তিন সহযোগীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন থানায় মামলা করেছেন। সন্ত্রাসী মাহবুব রহমান ম্যানসেল যশোর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হত্যা, চাঁদাবাজিসহ দেড় ডজন মামলার আসামি।

আটককৃতরা হলেন : শহরেরর ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকার ফারহাদুর রহমান ওরফে আলমাসের ছেলে মেহবুব রহমান ম্যানসেল, তার সহযোগী ষষ্ঠীতলা এলাকার সলেমান মীরের ছেলে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রাকিব হাসান ওরফে ভাইপো রাকিব, রেলবাজার এলাকার আলী হোসেনের ছেলে অনিক হাসান মেহেদী ও ষষ্ঠীতলা এলাকার মীর শওকত আলীর ছেলে মীর সাদি।

যশোর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট ডা. বাপ্পি কবি শেখর জানান, রবিবার দুপুরে ম্যানসেল নামে একজন তাদের কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর জরুরি বিভাগে তাকে কিছু ব্যায়াম দেখানো হয়। ব্যায়ামের পর একটি মেশিনে তার থেরাপি নেওয়ার কথা। প্রতিষ্ঠানের কর্মী আল আমিন ঐ মেশিনটি প্রস্তুত করে দেন। এ সময় অফিসের প্রধান জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন আল আমিনকে ডাক দিলে তিনি রুমের বাইরে আসেন। থেরাপি মেশিন চালু না করে রুমের বাইরে আসায় ম্যানসেল ও তার সাথে থাকা লোকজন আল আমিনকে ডেকে নিয়ে মারপিট শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে মুনা আফরিন নিচে নেমে এলে গালিগালাজ করে তাকে মারতে উদ্যত হয় সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল আলমসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ম্যানসেলসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন আটক চারজনসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর সন্ধ্যায় পুলিশ ঐ চারজনকে আদালতে প্রেরণ করে। আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট মারুফ আহমেদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন বলেন, আমার চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতিতে কখনও পড়িনি। অফিসে কর্মরত অবস্থায় এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে কখনও ভাবতে পারিনি।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত শফিকুল আলম বলেন, সরকারি অফিসে ঢুকে কাজে বাধা দেওয়া, কর্মকর্তাকে শ্লীলতাহানি, কর্মচারীতে মারপিট ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতরা সবাই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। এদের নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, হত্যাসহ মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *