যশোর শিক্ষাবোর্ডে চেক জালিয়াতি ঘটনায় তদন্তে দুদক

Share Now..

যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
যশোর শিক্ষাবোর্ডে চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  এর আগে সকালে শিক্ষাবোর্ড সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এদিকে, যে দুই প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট থেকে টাকা লোপাট করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা টাকা ফেরত দেয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন বলে দাবি করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন।
চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় রোববার দুপুরে দুদক টিম যশোর শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ তদন্তে যায়।যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, ২০২০-২১ ও ২১-২২ অর্থবছরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ দশ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করে। এই নয়টি চেক জালিয়াতি করে ‘ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার দশ টাকা এবং ‘শাহীলাল স্টোর’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেনের সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন, প্রশাসন শাখার ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার রাকিব হাসান ও হিসাব সহকারী আবদুস সালাম এই টাকা উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলেও আলোচনা চলছে। ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবুও ওই চার কর্মকর্তাকে দায়ী করে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে ওই চার কর্মকর্তা ও দুই ব্যবসায়ী এই টাকা লোপাটের ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হিসাব সহকারী আবদুস সালাম সপরিবারে পালিয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) অভ্যন্তরীণ অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং প্রকাশ্যে আসে। এরপর আড়াই কোটি টাকার এই তসরুফ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ধরা পড়ার দু’দিন পর রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে যশোর শিক্ষাবোর্ড সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা দুদক যশোর কার্যালয়ে এসে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা বলেন, মাঝে দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় রোববার আমরা দুদকে একটি অভিযোগ দিয়েছি। দুদক কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগ দাখিলের পর বেলা ১২ টায় দুদক যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতের নেতৃত্বে একটি টিম শিক্ষাবোর্ডে যায়। দুদক কর্মকর্তারা বোর্ডে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন তারা।
দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত জানান, শিক্ষাবোর্ড থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঢাকায় প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করেছেন। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে চেক জালিয়াতির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষাবোর্ডের হিসাব প্রদান শাখার হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন। তিনি জানান, কিছু না জানিয়ে রোববার অফিসে অনুপস্থিত আব্দুস সালাম। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন সে পরিবারসহ বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, যে দু’টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তাদের মালিকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ফিরিয়ে দেবেন বলে খবর পাঠাচ্ছেন। তবে এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। টাকা ফেরত দিলেও তা আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম এর আগেও অনেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে ১২ লাখ টাকার একটি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সেইসময় তদবির করে তিনি সেখান থেকে রক্ষা পান। এরপর আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে নাম আসছে। আব্দুস সালাম দুর্নীতির মাধ্যমে উপশহরে দুটি আলীশান বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় দশ বিঘা জমি ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকানা অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.