শৈলকুপায় মাটি ও বালু টানা গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন,মোড়ে মোড়ে যানজট, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা

Share Now..

শৈলকুপা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাটি ও বালু টানা গাড়িতে অতিষ্ঠ করে তুলেছে জন জীবন। রাতে দিনে চব্বিশ ঘন্টা বালু ও মাটি ভর্তি শত শত ড্রাম ট্রাক , নসিমন করিমন, ট্রাক্টর উপজেলা শহরের উপর দিয়ে চলাচল করে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে প্রতিদিনই কোন না কোন কাজে এই শহরে আসতে হয়। শহরে আসা মানুষদের প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে ধুলা-বালির কবলে । যার ফলে বাড়ছে নানা রকম রোগ ব্যাধি । শহরের ব্যবসায়ীরা দোকানে বসে ঠিকমত ব্যবসা বানিজ্য করতে পারছে না। এই সমস্থ গাড়ি চলাচলের ফলে শহরের মোড়ে মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। এছাড়াও রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
দিনের পর দিন এভাবে অতিবাহিত হলেও সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
দেখা যায়, শৈলকুপায় ইট ভাটার মাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে সেগুলো ভাটায় আনা হয়। মূল সড়ক দিয়ে টাক্টরে কাদামাটি বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। এই কাদামাটিই রৌদ্রে শুকিয়ে বর্তমানে ধূলা হয়ে বাতাসে উড়ছে। এর পাশাপাশি উপজেলার গড়াই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করে তা ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাতাসের সাথে এই বালি বহুগনে ছড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া লক্কর-ঝক্কর সড়ক দিয়ে যখনই কোন প্রাইভেট কার, ট্রাক্টর, পিকআপ, ট্রাক অথাৎ মালবাহী গাড়ী চলাচল করছে তখন এই বালি মিশ্রিত ধূলা উড়ার পরিমান বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ভ্যান, রিক্সা, মটরসাইকেল আরোহী সহ পায়ে হেটে চলাচলকারী এবং রাস্তার দু’ধার দিয়ে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও ফুটপাতের ব্যাবসায়ীরা ধূলা বালিতে আক্রান্ত হয়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, ব্যাবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সংবাদকর্মী,বিভিন্ন পরিবহনের চালক সহ সর্বস্তরের মানুষ ধূলা বালির কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত হাপিয়ে উঠছে। অফিস আদালতে যাওয়া লোকজন পরিস্কার কাপড় নিয়ে অফিস বা কর্মক্ষেত্রে পৌছাতে পারছে না।
উপজেলার কবিরপুরের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী মোঃ আতিক বলেন দোকানে বসে ব্যবসা করা দায় হয়ে পড়েছে।ধুলাবালিতে পুরা দোকান ছেয়ে যাচ্ছে। খুবই সমস্যার মধ্যে আছি। ধুলোর প্রকোপ ঠেকাতে দোকানের সামনে পর্দা টানিয়ে দিয়েছি ।কিন্তু তাতেও রক্ষা হচ্ছে না। ধুলোর কারণে কাস্টমারও কম আসছে তাই আয় ও কম হচ্ছে।
কলেজ পড়ুয়া ছাত্র আঃ রহিম বলেন, ধুলার কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। ধুলা-বালিতে চোখ-মুখ সহ সর্বশরীর ভরে যাচ্ছে। চলাচলে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। চোখে বালি গেলে কিছুই চোখে দেখা যায় না। ফলে যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এব্যাপারে পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল আজম বলেন, আমিতো একা গাড়ী বন্ধ করতে পারি না। এই গাড়ী চলাচলের ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী রবিবারে ডিসি অফিসে মিটিং আছে সেই মিটিংয়ে এই বিষয়টা তুলে ধরবো।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইন শৃংখলা মিটিংয়ে আলোচনা করবো। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাফিক পুলিশের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *