শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় সহকর্মী এক শিক্ষককে হুমকী দিলেন আরেক শিক্ষক!

Share Now..


স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জাফর আলতাপকে শো’কজ করা হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হাফিজুর রহমান মিল্টনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শো’কজ করেন। স্কুল সভাপতি মোশররফ হোসেন শুক্রবার দুপুরে খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগে শিক্ষক হাফিজুর রহমান মিল্টন উল্লেখ করেন, গত ১৭ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শ্রীফলতলা গ্রামের বিশারত আলীর ছেলে জাফর আলতাপ স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের খবর ফাঁস হয়ে পড়ে। ছাত্রীর মা ফোন করে হাফিজুর রহমানের কাছে সাহায্য চাইলে তিনি ঘটনাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে অবহিত করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন জাফর আলতাপ। গত ২০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাফিজুর রহমান মিল্টন বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় জাফর আলতাপের ভাই রেজাউল করিম দুলাল ও একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে বল্টু শিক্ষক মিল্টনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত ও হত্যার চেষ্টা করে। ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের এই বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়ারও হুমকী দেওয়া হয় বলে মিল্টন তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ দিকে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষক জাফর আলতাপের এ বিষয়টি নিয়ে গোটা এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। খবর পেয়ে হরিণাকুন্ডু থানা ও চরপাড়া ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তদন্তের উদ্যোগ গ্রহন করে। জেলা প্রশাসক দপ্তরেও একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। গোটা বিষয় যখন টালমাটাল তখন শিক্ষক জাফর আলতাফ মেয়ের পরিবারকে কৌশলে ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। কিন্তু এলাকা জুড়ে বিষয়টি মুখরোচক খবরে পরিণত হয়। সত্য মিথ্যা যাই হোক ঘটনাটির তদন্ত চান এলাকাবাসি। এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলীম জানান, এ বিষয়ে জাফর আলতাপকে শো’কজ করা হলে তিনি দুই কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেন। পরবর্তী পদক্ষেপ স্কুল কমিটি গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান। স্কুল সভাপতি মোশররফ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ যেই করুক তার ছাড় নেই। তিনি বলেন, শো’কজের জবাব দিয়েছে শুনেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ স্কুলের সভায় নির্ধারণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তসলিমা খাতুন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। আমরা তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জাফর আলতাপের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.