শ্রীলঙ্কায় সামরিক ঘাঁটি বানানোর চেষ্টায় চীন: পেন্টাগন

Share Now..


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১ এ বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় সামরিক ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে চীন। দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব বিস্তার ও ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প (ওবিওআর) বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম চলছে।

রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে চীন। সেইসঙ্গে কলোম্বোর সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি কৃত্রিম দ্বীপও তারা একই সময়ের জন্য লিজ নিয়েছে। যার কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নিয়ে পুনরায় পরিকল্পনা করতে হয়েছে।

চীনের এই কার্যক্রমে শ্রীলঙ্কার সরকারও সহায়তা করছে। এমনকি চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন চুক্তিও করছে তারা। যার কারণে কলোম্বোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা করে নিচ্ছে। এতে করে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের হাম্বানতোতা ও কলোম্বোর অনেকাংশই এখন চীনাদের প্রভাব শক্তিশালী। অনেকে একে নতুন দখলদারিত্ব হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ওবিওআর পরিকল্পনার বিষয়টি জনসম্মুখে আনে চীন। এর ব্যবহার করে অর্থনীতি ও সামরিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে চলে যাবে দেশটি। এই প্রকল্পে চীনের প্রতিবেশী কয়েকটি রাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১২৫টি রাষ্ট্র যুক্ত আছে। এসব রাষ্ট্রে অবকাঠামো থেকে শুরু করে অর্থায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উন্নত প্রযুক্তি, শিল্পাঞ্চল তৈরি করছে শি জিন পিংয়ের সরকার। অধিকাংশ দেশকেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির কথা বলে চীনা নেতারা এই প্রকল্পে যুক্ত করেছেন।

ওবিওআর প্রকল্পে যুক্ত হওয়া প্রথম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা অন্যতম। গত প্রায় এক যুগ ধরে চীনাদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে দেশটির সরকার। শ্রীলঙ্কান সরকার যে শুধু ভূমি দিয়ে সাহায্য করছে এমন না। চীনা কোম্পনিগুলোকে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের অনুমতিও তারা দিয়েছে। সেইসঙ্গে নতুন করে রাস্তা তৈরি করার বিষয়টিও আছে। যা তৈরি করছে চীন।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এতোদিন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে চীনা বাণিজ্যিক উপস্থিতি থাকলেও ধীরে ধীরে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত জুলাইতে হাম্বানতোতার প্রাচীন একটি পুকুরে খনন কাজে বেশ কিছু চীনা সামরিক কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। বিদেশি নাগরিকদের সামরিক পোষাক পরে থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। স্থানীয় একটি টেলিভিশন সেই ঘটনার ফুটেজ নিয়ে তা প্রকাশ করে। পরে শুরু হয় সমালোচনার। কিন্তু ওই খনন কাজের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় এক শ্রীলঙ্কান। তিনি চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অস্বীকার করেছেন। চীনা দূতাবাসও বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে। পরে এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, নকল সামরিক পোষাক পরে বেশ কয়েকজন ওই পুকুরের কাছে গিয়েছিলো। এসব পোষাক অনলাইনেই ক্রয় করা যায়। এসময় বেশ কিছু অনলাইন দোকানের ছবি প্রকাশ করে চীনা দূতাবাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.