সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এশিয়া?

Share Now..

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মাঝে তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা ‘ভুল হিসেব-নিকেশ, গুরুতর সংঘাত, প্রকাশ্য সংঘর্ষ এবং প্রধান প্রধান শক্তিধর দেশগুলোর মাঝে অপ্রত্যাশিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে’ বলে সতর্ক করে দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিতর্কিত তাইওয়ান সফরের পর চীন-তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আসিয়ান কম্বোডিয়ায় ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে একটি বৈঠকের আয়োজন করছে। বুধবার ন্যান্সি পেলোসির সফরের পর তাইওয়ানের চারপাশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিই এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি অনেকে তাইওয়ানকে ঘিরে এশিয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সব পক্ষকে উসকানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সংলাপ আয়োজনে গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত আসিয়ান।

গত ২৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিক হিসেবে বুধবার স্ব-শাসিত তাইওয়ান সফর করেছেন পেলোসি; যা চীনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পেলোসির সফরের পর তাইওয়ানের চারপাশে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া ও অন্যান্য তৎপরতা শুরু করেছে চীন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টায় শুরু হওয়া এই মহড়া থেকে তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকার জলসীমার কাছে অন্তত ১১টি ডংফেং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে চীন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সাধারণত চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সতর্কতার সাথে পথ চলার প্রবণতা দেখায়। যাতে বিশ্বের প্রধান এই দুই শক্তির কোনও পক্ষ ক্ষুব্ধ না হয়, তা নিয়ে সতর্ক থাকে এশীয় দেশগুলো।

কম্বোডিয়ায় আসিয়ানের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পেলোসির তাইওয়ান সফরকে ‘পাগলামি, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অত্যন্ত অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, আসিয়ানের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তৃতায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, তিনি স্বীকার করেন তাইওয়ান ইস্যুটি সবার মনে রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে।

‘আমরা স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো একতরফা প্রচেষ্টার বিরোধিতা করি, বিশেষ করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে… এবং আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের অবস্থানের কিছুই পরিবর্তন হয়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.