সরকারি হাসপাতালের জনবলের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Share Now..

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের সব জেলা-উপজেলার সরকারি হাসপাতালের জনবলের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। শুধু জনবল নয়, হাসপাতালের স্থাপনায় সমস্যা আছে কি না, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির কী অবস্থা-যাবতীয় তথ্য প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখতে চেয়েছেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দৈনিক ইত্তেফাকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের সরেজমিন চিত্র সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। জনগণের হাতের কাছে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার জেলা পর্যায়ে জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। দেশের অর্ধেক জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ নেই। সেখানেও জনবলের সংকট।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি জনবলের অভাবে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে, অপারেশন বন্ধ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কনসালটেন্ট না থাকায় রোগীরা অপারেশনসহ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ থেকে ছয়টি কনসালটেন্ট পদ আছে। প্রতিটি পদই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ। এখানে থাকার কথা জেনারেল সার্জন, অর্থপেডিক, শিশু, গাইনি, ইএনটি ও চক্ষু। বেশির ভাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক থেকে দুই জন ছাড়া বেশির ভাগ কনসালটেন্টেরই পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকে। রোগীরা করোনাসহ অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হাসপাতালে ভিড় করছেন। এসব বিষয় ইত্তেফাকের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে সারা দেশে ১৩ হাজার ৭০০ হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। যা হাতের কাছেই করোনাসহ সব রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব। করোনাকালে এই কমিউনিটি ক্লিনিক বড় ভূমিকা রাখতে পরে। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ে কী কার্যক্রম চলে তা যেন দেখার কেউ নেই। দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার। তাদের অনেকে কখনোই এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে যান না। গ্রামাঞ্চলের করোনার উপসর্গভিত্তিক সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলা ব্যথার চিকিৎসা এই ক্লিনিক থেকেই সম্ভব। সরকার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ৩০ থেকে ৪০ ধরনের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকে সরবরাহ করে। অথচ তদারকি না করায় অধিকাংশ ওষুধ পাচার হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *